‘দৈনিক মোহাম্মদপুর’
· Prothom Alo
Visit betsport.cv for more information.
· Prothom Alo
Visit betsport.cv for more information.
· Prothom Alo

আলোচিত মিম অনুযায়ী ডেথবুকে ব্রাজিলের নাম লিখেও লাভ হলো না। জাপান বিদায় নিল বিশ্বকাপ থেকে। এই ডেথবুকে আসলে কী লেখা থাকে?
ফিফা বিশ্বকাপে জাপান বিদায় নিল নক আউট পর্বে ব্রাজিলের কাছে হেরে। আলোচিত মিম অনুযায়ী ডেথবুকে ব্রাজিলের নাম লিখেও লাভ হলো না। জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর নোটবুক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মজার আলোচনা চলে আসছে। অনেকেই হাস্যরস করে বলেন এটি নাকি ডেথ নোট! কিন্তু এই রহস্যময় ডেথ নোট বইয়ে আসলে কী লেখা থাকে?
Visit tr-sport.bond for more information.
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসুকে সবসময় খেলা চলাকালীন একটি নোটবুকে কিছু টুকে রাখতে দেখা যায়প্রথমে মাঙ্গা, পরে অ্যানিমে ও চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই এটি বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেজাপানিজ পপ সংস্কৃতিতে আসলে অদ্ভুত সব সৃষ্টি আছে, যা শুধু বিনোদন নয়, মানুষকে নৈতিকতা, ক্ষমতা এবং জীবনের মূল্য নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। ডেথ নোট তেমনই একটি নাম। প্রথমে মাঙ্গা, পরে অ্যানিমে ও চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই এটি বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
যেভাবে এই আলোচনার শুরু
জাপান জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুকে নিয়ে একটি ভাইরাল ইন্টারনেট মিম রয়েছে, যেখানে তাকে জনপ্রিয় অ্যানিমে ডেথ নোট-এর প্রধান চরিত্র লাইট ইয়াগামির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এই মিমের শুরু ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে। এরপর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভক্তরা মজা করে বলেন, তিনি আসলে কৌশল লিখছেন না; বরং বাস্তবের একটি ডেথ নোটে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বা দলের নাম লিখছেন, যাতে জাপান জয় পায়।
সামাজিক মাধ্যমে এই মিম ব্যাপক জনপ্রিয়ভাইরাল মিম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিম ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও এডিট করে দেখান, মোরিয়াসু নোট লিখছেন আর তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিউক (Ryuk) , যে ডেথ নোট অ্যানিমের বিখ্যাত মৃত্যুদেবতা।
এই ডেথ নোট দেখতে সাধারণ একটি কালো নোটবুকের মতো। কিন্তু এর ভেতরে লেখা নিয়মগুলো একে আলাদা করে তোলে। গল্প অনুযায়ী, এটি মূলত শিনিগামিদের (জাপানি মৃত্যু-দেবতা) জগতের একটি বই। শিনিগামি মানুষের মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ডিজিটাল আর্টে শিনিগামিডেথ নোটের প্রথম পাতায় সাধারণত একটি বাক্য লেখা থাকে—
“যার নাম এই খাতায় লেখা হবে, সে মারা যাবে।”
মাত্র এই একটি বাক্যই বইটির বিষয় বস্তু ।
বইটিতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম লেখা থাকে—
১. নাম লিখতে হবে সঠিকভাবে
যে ব্যক্তির নাম লিখবেন, তার সঠিক নাম জানতে হবে। ভুল নাম লিখলে কিছুই হবে না।
২. মুখ জানা জরুরি
শুধু নাম জানলেই হবে না, যার নাম লিখছেন তার মুখও কল্পনায় স্পষ্ট থাকতে হবে। এটি নিশ্চিত করে যেন একই নামে অন্য কেউ মারা না যায়।
৩. ৪০ সেকেন্ডের নিয়ম
কারও নাম লেখার পর যদি মৃত্যুর কারণ না লেখা হয়, তাহলে সে ৪০ সেকেন্ড পরে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাবে।
৪. মৃত্যুর কারণ লেখা যায়
নাম লেখার ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যুর কারণ লিখলে সেইভাবেই মৃত্যু ঘটবে যদি তা বাস্তবসম্মত হয়।
৫. মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতিও নির্ধারণ করা যায়
শুধু কারণ নয়, কখন, কোথায়, কীভাবে মৃত্যু হবে সেটিও নির্দিষ্ট করে লেখা সম্ভব।
অ্যানিমেটির ফিলোসফি অনুযায়ী, ডেথ নোট কেবল হত্যার জন্য নয়; এটি নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র লাইট ইয়াগামি, একজন মেধাবী ছাত্র, হঠাৎ এই বইটি পেয়ে যায়। প্রথমে সে অপরাধীদের শাস্তি দিতে বইটি ব্যবহার শুরু করে।
তার বিশ্বাস ছিল সে পৃথিবীকে অপরাধমুক্ত করবে। কিন্তু এখানেই শুরু হয় নৈতিক দ্বন্দ্ব। একজন মানুষ কি নিজের হাতে বিচার নেওয়ার অধিকার রাখে? অপরাধীকে হত্যা করে কি সত্যিই পৃথিবী ভালো হয়? নাকি ক্ষমতা মানুষকে ধীরে ধীরে ঈশ্বর ভাবতে শেখায়? লাইটের বিপরীতে দাঁড়ায় কিংবদন্তিতুল্য গোয়েন্দা এল। তাদের বুদ্ধির লড়াই ডেথ নোটকে সাধারণ থ্রিলার থেকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পর্যায়ে নিয়ে যায়। ডেথ নোটের শিনিগামি রিউক মূলত বিরক্ত হয়ে বইটি মানবজগতে ফেলে দেয় “দেখি, মানুষ এটা দিয়ে কী করে।”
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র লাইট ইয়াগামি, একজন মেধাবী ছাত্র, হঠাৎ এই বইটি পেয়ে যায়একটি সিদ্ধান্ত থেকেই জন্ম নেয় বিশৃঙ্খলা।
ডেথ নোটের বইয়ে লেখা নিয়মগুলো কাল্পনিক হলেও, এর দর্শন গভীরভাবে বাস্তব। ক্ষমতা যখন জবাবদিহিহীন হয়, তখন ন্যায়বিচার আর প্রতিশোধের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়। হয়তো এ কারণেই ডেথ নোট শুধু একটি অ্যানিমে নয় এটি মানবমনের অন্ধকার দিকের আয়না। আপনার হাতে যদি ডেথ নোট আসত, আপনি কি সত্যিই কারও নাম লিখতেন? আপাতত লিখে ফেলতে পারেন আপনার ব্যাক্তিগত ডায়েরিতে।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস, উইকিপিডিয়া
ছবি: ইন্সটাগ্রাম
· The Hill